হিংসে হয় বড্ড হিংসে
কিভাবে এত ভাব আসে অন্তরের গহীন হতে
ঝর্ণা কিংবা প্রস্রবনের মাধূর্য নিয়ে
শব্দবিভ্রাট কিভাবে ভেঙ্গেচূড়ে ফেলেন
হে কবি! আপনাকে বড্ড হিংসে হয়।
আমাদের মত কি আপনি নন
আপনি কিভাবে এত অসাধারণ
আপনার অবস্থান যা তাতো আছেই তার সাথে থাকে পারিপার্শ্বিকতা
এই পারিপার্শ্বিকতার অভাব কেন আমাদের
কি জানি হয়ত থাকে
কিন্তু তাদের উপস্থিতিটা কেন মলিন থেকে মলিনতর।
আপনার মত আমরাও তো পাহাড় দেখি
তার বিশালতার কথা উপলব্দি করি
কিন্তু তাকে প্রকাশ করার মত ভাষা কেন হারিয়ে ফেলি
নদী-সাগর-আকাশ চোখে পড়ে, চোখে পড়ে সূর্যোদয়-সুর্যাস্ত
কিন্তু নদীর রৌদ্রস্নাত বা চন্দ্রধৌত বুক, সাগর আর আকাশের বিশালতা
সব কিছু মুছে যায় সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মত অতি আটপৌরেভাবে।
আপনি কি করে শীতের ঝরাপাতাকে ক্রন্দন, গ্রীষ্মের দাবদাহকে নির্জনতায়
আর বর্ষার জলকে অশ্রুফোঁটায় পরিণত করেন
আবার শরতের শুভ্রতা ছড়িয়ে বসন্তকে উৎসবে রুপান্তরিত করেন
ইচ্ছে হলে শিমুল বা কাশফুলের রং ছড়িয়ে দেন ভূবণ জুড়ে
শীতের রুক্ষতা, গ্রীষ্মের কাষ্ঠফাঁটা রৌদ্র, বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টি
এর বাইরে তো কিছুই অনুভূত হয়না।
আপনার মত করে দুচোখ ভরে জ্যোৎস্না দেখি
কিংবা অমাবস্যায় তারাগুনি
নতুবা ঝিঁঝিঁডাকা রাত্রিরে অঙ্গুলী চালাই কর্ণকূহরে
সব কিছু কেন জানি উৎপাত মনে হয়
মনে হয় এক খাবলে সব কিছু ভেঙ্গে আবার গড়ি
কিন্তু ভাবলেশ না থাকায় ভাঙ্গা-গড়া থেমে যায় বেহালার করুণ সুরে।
ভেঙ্গেচূড়ে নতুন করে গড়ার দায়িত্ব তো আপনাদেরই
ইচ্ছে হলে শব্দ আর বাক্য নিয়ে খেলবেন
বাস্তব আর কাল্পনিক, জাগরণ আর স্বপ্নে
যেমন খুশী সাজাবেন বসুন্ধরাকে
সাতনরির পরশে উজ্জ্বলতা বাড়াবেন বা রাঙিয়ে দিবেন
আবার ইচ্ছে হলে ফানুস গড়ে ফুঁৎকারে উড়াবেন-তাই বড্ড বেশী হিংসে হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন