শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১১

রোদ জানালায় অন্য আলো



লিখার অক্ষমতা ক্রমশ নুয়ে ফেলেছে মস্তিস্ক। মুঠোফোনের বদৌলতে লেখালেখির রেওয়াজটা উবে গেছে প্রায়। আগে ইচ্ছে হলেই এখানে ওখানে লিখে রাখতাম। মাঝে মাঝে আবার ডায়েরীতেও লিখতাম। হুটহাট কয়েকটা চিঠি লিখে দূরবাসী কোন বন্ধুর নিকট পাঠাতাম। কখনও প্রবাসী কোন বন্ধু বা স্বজনের কাছেও পাঠাতাম। পাঠানো না হলে ডায়েরীর পাতাতেই লিপিবদ্ধ থাকতো। আবার তাদের কাছ থেকে প্রতি উত্তরে পাওয়া চিঠিগুলো সব জমা থাকতো বুকশেল্ফে। এখনো বুক শেলফটার কয়েকটা থাক ভর্তি এইসব জমানো চিঠি। অনেক দিন নাড়াচাড়া না করায় ধূলির আস্তরে ঢাকা পড়েছে। পুরনো স্থাপত্যের ন্যায় চিঠিগুলো যেন ধূলির আস্তরের আড়ালে জ্বলজ্বলে কিছু স্মৃতি বহন করছে।

**
আজকে অফিস থেকে ফেরার পথে সেই পুরাতন চিঠিগুলোর কথা মনে পড়লো। বাসায় ফিরে যেভাবে হোক চিঠিগুলো অন্তত একবার করে পড়ে দেখবো। কিন্তু বাসায় ফিরতে না ফিরতেই সারাদিনের ক্লান্তি সারাশরীরে জেকে বসলো। অবসন্ন চিত্তে বিছানায় শুয়ে টিভি রিমোট ঘুরাচ্ছি। পছন্দের চ্যানেলগুলোতেও দেখার মত তেমন কোন অনুষ্ঠান নেই। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে চলছে টক ঝাল মিষ্টি অনুষ্ঠান। চ্যানেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বুদ্ধিজীবির সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে বিউটিশিয়ান আর কুকের সংখ্যা। যেন এইসব বুদ্ধিজীবিদের কথার ঝুলির তোরে সমাজটা পালটে যাবে। বিউটিশিয়ানগণ পাল্টাবেন পুরা সমাজের কালার। আর কুকগণ দেশটা কিভাবে রেঁধে খেতে হয় তা শিখাবেন। সেই খেতাবী কুকগণ কি জানেনও না আমাদের বাঙালী রমনীরা রন্ধন পটু। অগত্যা খবরের চ্যানেলের দিকে এগোতে থাকলাম। একটা খবরের চ্যানেল পাওয়া গেল। আগামীকাল ১৫ জুন, পূর্ণচন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশের সর্বত্র এই গ্রহণ দেখা যাবে। রাত ১১টা ২৪ মিনিটে শুরু হবে গ্রহণের উপচ্ছায়া পর্যায়। আংশিক চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে রাত ১২টা ২৩ মিনিটে। চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণতা পাবে রাত ২টা ১২ মিনিটে। চন্দ্রগ্রহণটি ১০০ মিনিট স্থায়ী হবে। পূর্ণচন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে ভোর রাত ৪টা ২ মিনিটে। ভোর রাত ৫ টায় শেষ হবে এর শেষ উপচ্ছায়া পর্যায়। শুধু বাংলাদেশ নয়। আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া থেকেও পুরোপুরি, আর দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া থেকেও মোটামুটি দেখা যাবে।
অষ্ট্রেলিয়া ইউরোপ আর আফ্রিকা থেকে না দেখা গেলেও সমস্যা নেই। অন্তত বাংলাদেশ থেকে যেন দেখা যায়।
ধন্যবাদ সেই সংবাদ পাঠককে যিনি, হাজারো অখববের ভীড়ে একটি সুখবর দিলেন। মনস্থির করলাম আজকে যেভাবেই হোক চন্দ্রগ্রহণটা উপভোগ করবো। পাশে কেউ না থাকলেও চলবে। শুধুমাত্র বিষণ্ন বা মৃত চাঁদটা দেখা গেলেই হলো। এই ভাবতে ভাবতেই ঘুমের সাগরে তলিয়ে গেলাম।

***
সন্ধ্যার দিকে কিছু একটা খাওয়া অভ্যেস। শরীরের ক্লান্তি বিছানায় টেনে নেয়ায় আজ কিছুই খাওয়া হয়নি। ক্ষুধার তাড়নায় রাত বারটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেল। মা সাধারণত ঘুম থেকে ডেকে তোলেন না। তবে জীবনে একটা দিন ব্যতিক্রম হলে মন্দ হতো না। খাওয়ার কথা ভুলে হাঁসফাঁস করে ছাদে দৌঁড়ুলাম।

চাঁদটার আলো যেন আকাশ ভেঙ্গে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যরকম আলো অন্য রকম মায়ানুভূতি টেনে রাখছে সারাক্ষণ। সারা শরীর আর মনকে করছে অবশ ও অবসন্ন। এই মুহুর্তে একজনকেই প্রত্যাশা করছি। যান্ত্রিক জীবনের গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সবুজের মাঝে হারাতে ইচ্ছে করছে। চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ থাকবে। আমি থাকবো সে থাকবে। এক সাথে চলবো। একই গান গাইবো। হাতে হাত রেখে দূর দিগন্তে অজানায় পারি জমাবো।

****
এর মধ্যে আমাকে খুঁজতে মা ছাদে এসেছেন।
ছাদে একা একা বসে আছো কেন বাবু?
-চন্দ্রগ্রহণ দেখি মা।
চন্দ্রগ্রহণ দেখার কি আছে? পুরা দুনিয়াটা তো অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে। এটা আবার দেখার কি হলো?
-আছে অনেক কিছু দেখার আছে মা। তুমি বুঝবা না।
কালে কালে কত চন্দ্রগ্রহণ হলো। এটা কোন দেখার বিষয়?
হ্যা মা! তুমিতো জীবনে অনেক চন্দ্রগ্রহণ দেখেছো। আচ্ছা বলোতো চন্দ্রগ্রহণ হয় কেন?
কি জানি বাপু! কি জন্য হয়। তবে ঐ চাঁদের বুড়িটা আছে না। ওর মন খারাপ হলে কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে যখন চোখে কোন পানি থাকেনা। চোখ ফুলেফেপে বন্ধ হয়ে যায়।
-আচ্ছা আচ্ছা থামো মা। আর বলতে হবে না।
শোন চাঁদ নিয়ে আর গবেষণা করতে হবে না। তোর জন্য চাঁদের মত সুন্দর একটা বউয়ের ব্যবস্থা করছি।
-তাই নাকি মা? সে একদম চাঁদের মত দেখতে। তা কে সেই চাঁদের মত রূপবতী কন্যাটা?
কেন সোমার বান্ধবী সিনথিয়া’কে চিনিস না?
-সিনথিয়া----সিনথিয়া---সিনথিয়া!
আরে বোকা ঐ যে লম্বা ফর্সা সুন্দর মেয়েটা সোমার সাথে পড়তো। আমাদের বাসায় মাঝে মাঝে সোমার সাথে আসতো।
-হ্যা মা হ্যা আর বলতে হবেনা। চিনেছি এবার। কিন্তু সেতো আমার চেয়ে দশ বছরের মত ছোট হবে।
তাতে কি হয়েছে? আমার তো দশ বছর বয়সে বিয়ে হয়। তোর বাবার বয়স ছিল বাইশ বছর।
-এখন যুগ পরিবর্তন হয়েছে মা। এত বয়স পার্থক্যে আর বিয়ে হয়না।
কে বলেছে তোকে। এইতো সেদিন শফিক সাহেবের মেয়ে অর্পিতার বিয়ে হলো। ছেলেটা বার বছরের বড়।
-না মা আমার পক্ষে এই ফারাক মেনে নেয়া সম্ভব না।
তুই তো কত জনকেই দেখলি। এক জায়গায়ও তো পছন্দ হলো না। এখন সিনথিয়াকে দেখ। আশা করি তোর পছন্দ না হয়ে যাবেনা। তোর পড়ার টেবিলে খাবার দিয়ে দিবো। খেয়ে নিস। আর হ্যা সিনথিয়ার একটা ছবি আছে আমার কাছে। তোর টেবিলে রেখে দিবো। দেখে নিস। ঠান্ডা লেগে যাবে। বেশীক্ষণ থাকিস না যেন। তাড়াতাড়ি নেমে আসিস।
বাপ মরা ছেলেটাকে নিয়ে আমার হয়েছে যত জ্বালা----

*****
অতন্দ্রিলা! হ্যা অতন্দ্রিলাকে নিয়ে ভাবনার জট খুলতে খুলতেই কখন চাঁদটা অন্ধকারে ঢেকে গেছে খেয়ালই করিনি। সেই ঘোর অন্ধকার হাতরে মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা। সে আর আমি একই ক্লাসে ছিলাম। বয়সের তুলনায় বাড়ন্ত এবং সহজাত সুন্দরী মেয়ে ছিল। বেশ চপল চটুল আর কথাবার্তায় খোলামেলা ছিল। অল্পতেই হাসতো আবার পান থেকে চুন খসলেই কাঁদতো। একই পাড়ায় বাড়ি বলে সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো। তারপরও প্রতিদিন একটা করে পত্র লিখতো। বিনিময়ে তার দেয়া ডায়েরীর পাতায় একটা পত্র চাইই চাই। তা নাহলে নালিশের অন্ত ছিল না। মাঝে মাঝে তাকে চপল পায়ের পাহাড়ী নদী মনে হতো। আবার কখনো কখনো সে সাগরের মত শান্ত স্নিগ্ধ গম্ভীর ছিল। আমার যত দৈনন্দিন টুকিটাকি সমস্যার যথার্থ সমাধান দিতো সে। আমার পারিবারিক উপদেষ্টাও বলা চলে তাকে। আমি ছিলাম শান্ত লাজুক গোছের ঘরকুনো গোবেচারা। আমাকে সে শিখিয়েছিল কিভাবে মানুষের সাথে মিশতে হয়। কিভাবে কথার ডালপালা ছড়াতে হয়। কিভাবে কবি হতে হয়। কিভাবে কবিতা লিখতে হয়। আমার যত প্রাপ্তি তার শুভাশীসে প্রাপ্ত বলা চলে। তার হাত ধরেই আমি সমাজ তথা পৃথিবীটাকে চিনেছি। তার সম্পর্কে অনেক বলা হয়ে গেল। কিন্তু সেতো এত বলারও ঊর্ধ্বে। বাকী না বলা সব কথা আমার অন্তরেই ধূপ হয়ে জ্বলুক। সেই ধূপের গন্ধে আমি বিভোর হই বারবার। আমি হাসি। আমি কাঁদি। আমি অজান্তে হারাই যুগযুগান্তরে।

চারিদিকে ঊষারবির প্রত্যাশা প্রার্থী পাখিরা কিচির মিচির শুরু করেছে। সেই সাথে অন্ধকারের কোলে ঢেকে থাকা চাঁদটার ক্লান্ত চোখ ধীরে ধীরে খুলছে। ম্লান পৃথিবী আলোকিত হতে শুরু করেছে। রবির প্রত্যাবর্তনে চাঁদের আপাত বিদায়কালীন সময় শুরু হলো বলে আমারো ঘরে ফেরার সময় হলো।

******
ভাবনার ডালপালা গুটিয়ে ধীর অবশ পায়ে ছাদ থেকে নেমে আসলাম। টেবিলল্যাম্পের লালচে আলোয় চোখ তেতে উঠলো। টেবিলের উপর চকচকে একটা কাগজ চোখ টেনে ধরলো। মায়ের কাছে থাকা সিনথিয়ার ছবিটা নিশ্চয়ই। কাছে গিয়ে হাতে তুলে নিলাম। একটা সিড়ির দু'পাশে হরেক প্রকার ফুলের টব। সিড়ির পিলারে হেলান দেয়া উজ্জ্বল ঝকঝকে একটা মুখ। মাঝখানে লালের মাঝে ফুলতোলা নকশার জামা, সাদা সালোয়ার আর জর্জেটের ওড়না পরিহিত সিনথিয়া। বেনী করা চুল। ফিতা স্যান্ডেল পায়ে। হাত দুটো কোলের উপর। চোখে কাজল। সেই চোখ, মুখ আর অবয়বের টানে অদ্ভূত ইন্দ্রজালে বাঁধা পড়লাম।

*******
অতন্দ্রিলার শেষ চিঠিটা শেষবারের মত দেখার ইচ্ছে হলো। বুকশেল্ফ হাতরে চিঠিটা বের করলাম।

প্রিয় আবীর,
তোমার চিঠিটা আজকে সকালে পেলাম। আশা রাখি তুমি ভাল আছো। আমি বেঁচে থাকতে হয় বলেই বেঁচে আছি। তুমি লিখেছো যে, স্বপ্নে আমাকে প্রচন্ড অসুস্থ দেখেছো। এরপর তোমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, ডুকরে কাঁদতে থাকো।
হ্যা বাবু আমি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। বাকীটা নাইবা শুনলা। এখন মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেছি। আর তুমি আমার জন্য কোন চিন্তা করিওনা। আমার মেয়ে তাবাসসুম এবার ক্লাস ফাইভে উঠলো। তার জন্য দোয়া করিও।
তুমি শুনে খুশী হবে যে, আমার সারাজীবনের সেই একটি স্বপ্ন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। বিজয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেছি। আমাদের বাড়ীর কাছে হওয়ায় যাতায়াতে তেমন অসুবিধা হচ্ছে না। তোমার অনুপ্রেরণা আর আমার শাশুড়ীর উৎসাহে আমার এতদূর আসা। আমৃত্যু তোমাদের কাছে ঋনী হয়ে থাকলাম।
তোমাকে একটা খবর জানানো হয়নি। আহসান মারা গেছে অনেক দিন হলো। মদ্যপ অবস্থায় রাস্তায় ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে মারা যায়। সে বেঁচে থাকতে চায়নি আমি পড়ালেখা করে শিক্ষিত হই। সমাজে মেয়েদের ছায়া বলে কথা আছে। আমার জন্য সে ছায়া হয়ে না থাকলেও অর্ধছায়া হিসেবে তো ছিল। কিন্তু সেটাও সরে গেল। একবার ভেবেছিলাম তোমাকে জানাবো। কিন্তু কি হবে জানিয়ে? তুমি সব সময় আমার ভাল প্রত্যাশা করতা। সেই ভালর মধ্যে মন্দ সংবাদ শুনিয়ে তোমার মন খারাপ করতে চাইনি। শেষ দিকে তার অত্যাচার বেড়ে গিয়েছিল। হয়ত বিধাতা সেই অত্যাচারের কবল থেকে আমায় মুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো সেটা চাইনি। সে কথা সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই জানেন। কিন্তু সমাজ আমাকে আড়চোখে দেখছে। স্বামী হন্তারক বলে আড়ালে আবডালে কখনোবা প্রত্যক্ষ কটাক্ষ করছে। এই সমাজ আমাকে কি দিয়েছে তা আমি হিসেব করতে চাইনা। কি দিবো বা দিতে পারবো তারই হিসেব কষছি এখন। আমি ভুলে যেতে চাই আহসান কর্তৃক সেই সব ধর্ষিতরাত্রী। জানিনা পারবো কিনা! আমি জানি তোমাকে জানালে তুমি ছুটে আসতা। পাশে দাঁড়াতা। তোমার ঘরনী করে নিয়ে যেতে চাইতা। তাতে তোমার কষ্ট বাড়তো বৈ কমতো না। কালিঝুলিময় এই জীবনে তোমাকে জড়িয়ে তোমাকেও কলুষিত করতে চাইনা সমাজে। তুমি আমার নক্ষত্র হয়েই থাকো। ছুঁতে না পারলাম। তোমাকে নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবা তো যাবে।

যে সময়
যে নদী
চলে যায়
দূর পানে।
কভু ফিরে
কি আসে
হারানোর টানে?

যে ফুল
ঝরে যায়
রাত্রি আর
দিনে,
সে কি আর
ফিরে আসে
অন্য ফাল্গুনে!

তুমি শুধু আমার জন্য আশীর্বাদ করে দিও। সেটাই আমার কন্টকাকীর্ণ চলতি পথের দিশারী হবে। আমি জানি না চাইলেও তুমি আশীর্বাদ করবা। তুমি অতি শীগ্রি বিয়েথা করে ফেল। আর হ্যা আমাকে দাওয়াত করতে ভুলো না যেন। তোমার বিয়েতে আমি শাদা ছেড়ে লাল শাড়ী পড়ে আসবো। কপালে লাল টিপ দিবো। গলায় পড়বো তোমার দেয়া রুপার মালা। তুমি বললে তোমার বউও সাজিয়ে দিবো। ভাল থেকো বাবুটা। খুব ভাল।

তোমার চিরজীবনের শুভাকাঙ্খী
অতন্দ্রিলা

********
রাতের খাবারে আর রুচি হলো না। এক গ্লাস পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। মাথা থেকে এখনো চিন্তার বোঝা নেমে যায়নি। সিনথিয়া! যে কিনা আমার তুলনায় দশ বছরের ছোট একটা মেয়ে। তাকে অতন্দ্রিলার মত ভালবাসতে পারবো তো? সে আমাকে ভালবেসে কাছে টানতে পারবে তো? না সে জৈবিকতার টানে ছাদফ্যানের নীচে ধর্ষিত হবে রাতের পর রাত। বন্ধুমহলের অনেকেই তো বলছে মেয়েদের বয়স হলে নানান সমস্যা। কম বয়সের মেয়ে বিয়ে করা উচিত। সমাজের ভয় তো আছেই। না সমাজ রক্ষার সাধনায় একই স্রোতে গা ভাসিয়ে পূর্ব পুরুষের পুরনো ঐহিত্য বজায় রাখবো?
এতক্ষণে সূর্যরশ্মি জানালার পাতলা পর্দা ভেদ করে বিছানায় উঁকি দিচ্ছে। সারা শরীরে নরম রোদের ওম মেখে নিলাম বেশ কিছুক্ষণ। রোদের ওম মেখে মেখেই একটি চন্দ্রগ্রহণের রাত অতীত হয়ে আর একটি দিনের শুরু হলো।


ছবি: নিজস্ব এ্যালবাম

শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১১

একেকটা রাতি ও একলা অবেলায়




একেকটা রাতি

সীমাহীন আশায়
জেগে থাকা রাতি
বাদুর ঝোলা কদম ডাল
নুয়ে পরে,
নুয়ে পরে প্রহর।

জেনে গেছো সীমানা
থামিয়ে দিলে
নিরুদ্দেশ যাত্রীকে
রিক্ত হস্তে
ফিরে আসে ব্যাকুলতা।
ফিরে আসি বারবার
ঘুম না আসতেই
দ্বিপ্রহর
একেকটা রাত্রী
সহস্র প্রহর!


একলা অবেলায়

পৃথিবী!
আমার পৃথিবী!
ছুঁয়ে দেখা হয় না তোমায়
মুখ ফুটে কথা বলা হয় না
অনেক দিন।

তোমার প্রকোষ্ঠে তাড়িত বায়ু
শ্যামল অরণ্য
বিধ্বস্ত সূর্যের
ক্ষয়ে যাওয়া বিকিরণ,
আমার শরীর বেয়ে নামে
নতজানু হয়ে পড়ি
কুর্নিশ করি তোমায়।

বিভাজিত হৃদয় কাঁদে
চলে যাওয়া প্রিয়জনের তরে
নিঃসঙ্গতার লতা ছড়ায়
এখানে ওখানে সঙ্গোপনে।
বিনিময় হয় বিষণ্নতার বারুদ
নিঃশেষে নিঃসারিত ধোঁয়ায়।
অর্থহীন বেঁচে থাকার প্রলাপ
উন্মাদ বেহিসেবী সময় জুড়ে।

কিছু মুহূর্ত
আরশিতে আগলে
বেঁচে আছি বলেই
বেঁচে থাকার আনন্দ,
আকাশ মেঘের রঙ
মায়ের সুমিষ্ট চুমু
বাবার বুকে আশ্রয়
প্রিয়জনের হাতের
শেষ স্পর্শ।



ছবি: নিজস্ব এলবাম।

সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১১

চেরাপুঞ্জির খুব কাছ থেকে--ছবিব্লগ

কয়েকদিন আগে অফিসিয়াল কাজে সিলেটের ভোলাগঞ্জ নামক পাথর কোয়ারী এলাকায় গিয়েছিলাম।


ভোলাগঞ্জ সিলেট শহর থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। এই ভোলাগঞ্জ কোয়ারী এলাকার সংলগ্ন ভারতের পাহাড়ী রাজ্য- মেঘালয় রাজ্য। অবশ্য এই মেঘালয় রাজ্য, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার উত্তর দিকের বিভিন্ন উপজেলায় গেলেই চোখে পড়ে।


বিশালাকার সুউচ্চ পাহাড় একটার পর একটা, দেখলেই কেমন জানি লাগে ইচ্ছে হয় পাহাড়ী এলাকাটা ঘুরে আসতে।


কিন্তু কী আজব এক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমাদের বাস। যেতে পারি না, মনটা খারাপ হয়ে যায়।


কী আর করা, দূর থেকেই দেখে আসলাম মেঘালয়ের পাহাড়।


চেরাপুঞ্জি- যা কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাতের এলাকা।

টাঙ্গুয়ার হাওর (বাংলাদেশের সর্ববৃহত হাওর) - এর কিছু ছবি

কয়েক মাস আগে গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জ জেলায়। এই সুনামগঞ্জ জেলার বেশির ভাগ এলাকাই খাল-বিলে ও হাওর বাওরে ভরা। জেলার বিশালাকার অংশ বছরের বেশীর ভাগ সময়ই পানির নিচে থাকে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় থাকতে হয়েছিল কিছুদিন আর এই তাহিরপুর উপজেলাতেই রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় হাওর-শনির হাওর, মাথিনের হাওর এবং সর্বোপরি টাঙ্গুয়ার হাওর। শনির হাওর যা উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন এবং দক্ষিণে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম হাওর (দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর হচ্ছে হাকালুকি হাওর যা মৌলভীবাজার জেলায়)। টাঙ্গুয়ার হাওরই বাংলাদেশের সর্ববৃহত হাওর। যা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং পশ্চিমে নেত্রকোনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই হাওরের কিছু ছবি এ্যাড করলাম এখানে।

বর্ষায় মাধবকুন্ড! (মৌলভীবাজার)















সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস (Swine Flu Virus- AH1N1) - কিছু কথা!



সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস মেক্সিকো হতে ২০০৯ এর এপ্রিল থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ পর্যন্ত বিশ্বের অনেক দেশেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। মেক্সিকো, আমেরিকা, ব্রাজিল, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। ব্রাজিল সবচেয়ে ঝুকির মধ্যে আছে। ব্রাজিলে এ পর্যন্ত সর্বাধিক লোক মারা গেছে, মৃতের সংখ্যা ৫৭৭। আফ্রিকার প্রায় ২০ টি দেশে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ভাইরাস অনেক দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পরতে পারে বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশে এই প্রথম রাজধানীর ধানমন্ডির বেসরকারী ল্যাবএইড হাসপাতালে মিতা চক্রবর্তী (৩৫) নামে এক রোগী গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সোয়াইন ফ্লু?
মানুষের মত শুকরেরও ফ্লু হতে পারে কিন্তু মানুষ যেসব ফ্লু দ্বারা সচরাচর আক্রান্ত হয় সেগুলোর মত না। বর্তমানে যে মহামারী আকারে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছে এর আগে এরকম দেখা যায় নাই। শুধুমাত্র যারা শুকরের সংস্পর্শে আসত তারা আক্রান্ত হত এই ভাইরাস দ্বারা। এখন যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে তা আগের ভাইরাস গুলোর থেকে ভিন্ন কারণ এই ভাইরাসটি একজন থেকে আর একজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। World Health Organization (WHO) এর নাম দিয়েছে "Pandemic (H1N1) 2009" ।

কিভাবে ছড়ায়:
এই ফ্লু ছোঁয়াচে, অন্যান্য মৌসুমী ফ্লুর মত একজন থেকে আর একজনকে আক্রান্ত করে। হাঁচি, কাশি বা করমর্দনের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। যাতে এই ভাইরাস ছড়াতে না পারে এজন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাঁচি, কাশির সময় নাক/ মুখ রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এই সময় বাইরে বের হওয়া যাবেনা। তাদের হাত নিয়মিত পরিস্কার রাখতে হবে। যতদূর সম্ভব সুস্থ লোক থেকে দূরে রাখতে হবে।


উপসর্গ:
সববয়সী মানুষের মাঝে এই সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস ছড়ায়। এই ফ্লুর উপসর্গ অন্যান্য ফ্লুর মতই। যেমন তিন দিনের বেশী জর, সর্দি, কফ, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা,শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঠান্ডা লাগা, অবসন্নতা ইত্যাদি। এই ফ্লু হলে অনেকের এই উপসর্গগুলোর সাথে ডায়রিয়া/ বমিও হতে পারে। এই উপসর্গগুলোর মধ্যে কমপক্ষে দুইটি উপসর্গ থাকে। কিন্তু অন্য কারণেও এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সুতরাং একমাত্র ল্যাবটেষ্টই বলা যেতে পারে রোগী সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত কিনা।

চিকিৎসা:
গত ২৭/০৮/০৯ তারিখ পর্যন্ত ১৪৪ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে Institute of Epidemiology, Disease Control and Research(IEDCR) & National Influenza Centre (NIC), Bangladesh (Mohakhali, Dhaka-1212 ; info@iedcr.org; http://www.iedcr.org) থেকে। আজকে পর্যন্ত ২৪৭ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে এবং আগামী ২ সপ্তাহ বাড়বে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন আর টেস্টের দরকার নেই, ফ্লু মনে হলেই চিকিৎসা দিতে হবে, যাতে সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপ না বাড়ে। বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্লু আক্রান্তের সময়। সিজনাল ফ্লু এবং সোয়াইন ফ্লু নিয়ে গবেষণা করছে IEDCR এবং ICDDR,B (মহাখালী) এবং এখান থেকে ফ্লু টেষ্ট করানো যায়। বর্তমানে সোয়াইন ফ্লুর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এন্টিভাইরাল Oseltamivir এবং Zanamivir, তবে বাংলাদেশে Oseltamivir ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারীভাবে এই Oseltamivir জেলা পর্যায়ে পৌঁছানো হচ্ছে। যার একটি কোর্সে ১০টি ক্যাপসুল থাকে। আপাতত সরকার ৪০,০০০ কোর্স Oseltamivir সংগ্রহ করবে এরপর আরও ২০০০০০ সংগ্রহ করবে ২০০৯ এর ডিসেম্বরের মধ্যে। WHO জরুরী ১১০০০ Oseltamivir; ৮০০০ N95 mask এবং ২০০০০ সার্জিক্যাল মাস্ক পাঠিয়েছে। DGHS, ২০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক পাঠিয়েছে। Personal Protective Equipment (PPE) জেলা পর্যায়ে পৌঁছানো হচ্ছে। ঢাকার মহাখালীর Chest Disease Hospital (NIDCH) প্রয়োজনীয় সেবা দিতে প্রস্তুত। এ পর্যন্ত ৫০০০ জন ফিজিশিয়ান ট্রেইনআপ করা হয়েছে এবং ৩০ টি জেলায় এই সেবা পাওয়া যাবে। এই বছরের শেষের দিকে বাকী জেলাগুলোতে সেবা পাওয়া যাবে।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
নিম্নে WHO কর্তৃক প্রস্তাবিত ১০ টি ব্যবস্থার কথা বলা হলো যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে:

১. আপনার হাত পরিস্কর রাখুন: সাবান দিয়ে প্রায়শই হাত পরিস্কার করুন

২. পর্যাপ্ত ঘুমান: অন্ততপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন যা শরীর থেকে বর্জ্য নিস্কাশনে সহায়ক হবে।

৪. শক্তিবর্ধক খাবার খান: চর্বি জাতীয় খাবারের চেয়ে বেশী করে শস্য, শাকসবজি, ফলমূল খান।

৫. এলকোহল পরিত্যাগ করুন: এলকোহল শরীরের অবসাদ বাড়ায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ করে।

৬. শারীরিক ভাবে কর্মদক্ষতা বাড়ান (শরীরচর্চা):
অন্ততপক্ষে সপ্তাহে ৩/৪ দিন দ্রুত ৩০/৪০ মিনিট হাঁটুন। যা শরীরের অবসাদ দুর করবে, ঘামের মাধ্যমে বর্জ্য বের হবে। রক্তের অক্সিজেন সার্কুলেশন বৃদ্ধি পাবে এবং চিন্তা মুক্ত করে শরীরকে চাঙ্গা রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

৭. যেকোন ধরনের সংস্পর্শ থেকে সচেতন হতে হবে:
যেমন কারো সাথে করমর্দনের পর বা কারও ব্যবহৃত কলম বা অন্য কোন জিনিস নাড়ার পর অবশ্যই আগে হাত পরিস্কার করতে হবে- তার আগে হাত মূখমন্ডলে দেয়া যাবেনা।

৮. অসুস্থ লোকের সংস্পর্শ পরিত্যাগ করতে হবে:
হাঁচি/ কাশির মাধ্যমেই ফ্লু ছড়ায়। সুতরাং রুমাল ব্যবহার করতে হবে এবং ঘনঘন রুমাল পরিস্কার করে নিতে হবে। অসুস্থ লোকের সংস্পর্শ পরিত্যাগ করতে হবে/ নিদেনপক্ষে ২০ ফুট দূরে থাকতে হবে।

৯. কখন সেবা দরকার তা জানতে হবে:
সোয়াইন ফ্লু এবং অন্যান্য ফ্লুর মধ্যে বেসিক তেমন পার্থক্য নেই। সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখাতে হবে। যদি আপনার এলাকা সোয়াইন ফ্লু প্রবন হয় তাহলে যথাশীঘ্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

১০. সচেতন থাকতে হবে নিজেকে এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।

নিম্নে হাসপাতাল সমূহের নাম দেয়া হল যেখানে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে।

সরকারী হাসপাতাল:
১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
২. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
৩. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
৪. ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর ডিজিজ অব চেষ্ট এন্ড হসপিটাল (NIDCH)
৫. ইনফেক্সাস ডিজিজ হসপিটাল

বেসরকারী হাসপাতাল:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল)
২. বারডেম (BIRDEM)
৩. বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ধানমন্ডি
৪. উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল, উত্তরা
৫. হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৬. ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৭. ঢাকা শিশু হাসপাতাল
৮. সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন:
১. মহানগর শিশু হাসপাতাল
২. মহানগর জেনারেল হাসপাতাল (কর্মজীবি হাসপাতাল)

সিটি কর্পোরেশন হেল্থকেয়ার সেন্টার (এনজিও দ্বারা পরিচালিত ৯৫টি)

আরও জানতে চাইলে: প্রিয়জন হারিয়ে যাওয়ার আগেই আসুন সতর্ক হই

ডিসক্লেইমার: এখানে তথ্যগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এবং টিভি ও পত্রিকা থেকে নেয়া। অনেকে হয়ত সোয়াইন ফ্লু সম্পর্কে জানেন। যারা জানেন না তাদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রকৃতি



চাঁদের হাসি ঝিলের মাঝে
সেই ঝিলেতে পদ্ম ফোটে
পদ্মপাতায় কোলাব্যাঙ
করছে শুধু ঘ্যাঙর ঘ্যাং।

ঝিলের ধারে কাশবনে
কাশফুলেরা রঙ বোনে
শুভ্র সেই রঙের টানে
ফড়িং আসছে গানেগানে।

ঝিলের পাশে ছোট্ট বাড়ি
বাড়ির পিছে তাল-সুপারি
তাল-সুপারির সারির তলে
খোকা-খুকুরা বৌচি খেলে।

সংসার

মিছে সংসার
অকারণে হাহাকার
বেকুবের কারবার

মিছে সংসার
চেষ্ঠা সঙসাজার
পুরোটাই কদাকার

মিছে সংসার
পারাপারের খেলাঘর
রঙতুলির বাহার

মিছে সংসার
হলে স্বার্থপর
বাড়বেনা কদর

মিছে সংসার
করলে পরোপকার
জাতিসত্তার হৃদয়ভার

সাদাকালো



দিনে দিনে দিন কেটে যায়
রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়
ঘুমের আবেশ ঠিক থেকে যায়
কতল করার সুযোগ নাহি পায়

শীত গ্রীষ্ম শরৎ কেটে যায়
দাবদাহ শৈত্যপ্রবাহ পানে যায়
ঋতু পরিবর্তন ঠিক থেকে যায়
নবদিগন্তের উন্মোচন নাহি হয়

কালে কালে কাল কেটে যায়
কাল পেরিয়ে কালান্তর হয়ে যায়
বয়সের বোঝা ঠিক বেড়ে যায়
সুখের খোঁজ কভু নাহি পায়



ছবি: আন্ত:জাল

কানেকানে: শুধুমাত্র অবিবাহিত সুপুরুষ ব্লগারগণের জন্য। যারা চাইর আনা স্বর্ণের জন্য বিয়া করতে পারছেন না ;)

স্বর্ণের দাম যে হারে বৃদ্ধি পাইছে তাতে চাইর আনা স্বর্ণ দিবার পারুম না ভবিষ্যত গ্যাদার মাকে। চাইর আনা স্বর্ণের টেকা জোগার করতে করতে কত গ্যাদার মা নাই হইয়া গেল লাইফ থিকা তার পরিসংখ্যান নাইবা দিলাম। বহুত লজ্জা, দুস্ক আর ক্ষোভ নিয়া কত দোয়া করছি দুনিয়ার তাবৎ স্বর্ণ যেন গইলা পানি হইয়া যায়, যাতে স্বর্ণ আর পানিতে কোন ফারাক না থাকে কিন্তু উল্টা দেখতাছি স্বর্ণ আরও কঠিন হইতাছে, সেই সঙ্গে তাল মিলাইয়া দামটাও উঠতাছে আকাশের দিকে-- বিয়া করার শখ মনে হয় আকাশের দিকে তাকায় মিইঠা গেলগা।

তয় নতুন একখান ফর্মুলা খুঁইজা পাইছি মানে মাথায় আইছে আরকি। ডিপার্টমেন্টে পড়ালিখার সময় প্রতিবছর ফিল্ডে যাইতাম সপ্তাহ খানেকের লিগা। আমাদের অতি প্রিয় মনসুর স্যার (এক রাজনৈতিক মতাদর্শের) ফিল্ডে এক কাহানী শুনাইলেন:

আমাদের ম্যাডাম (কোন প্রধানমন্ত্রী কমুনা--আর ব্যাপারটা জিগাইয়েন না কইলাম) একদিন বিকাল বেলা আমারে খুশী মনে তার বাসভবনে ডাইকা পাঠাইলো। আমিও দেরী না কইরা তাড়াতাড়ি তার বাসায় পৌঁছাইলাম। কিজইন্য ম্যাডাম ডাইকা পাঠাইছেন জানার জন্য অতি আগ্রহ প্রকাশ করলাম। তিনি আমারে মুড়ি/ চানাচুর খাইতে দিয়া মনে মনে হাসতাছেন আর বলতাছেন আপনার মুড়ি খাওয়া হোক তারপর একটা অতি মূল্যবান জিনিস দেখামু। নাস্তা দ্রুত শেষ করলাম এরপর ম্যাডাম আলমিরা থেকে সযত্নে রাখা মখমলের কাপড়ে মোড়ানো একটা জিনিস আইনা হাতে দিলেন। আর বললেন বিদেশে ভ্রমণের সময় এক ভক্ত আমারে এই দামী জিনিসটা উপহার দিছে। খুললাম! কিন্তু একি এটাতো দেখি চ্যালকোপাইরাইটস যা দেখতে স্বর্ণের মত। যাকে ফুলস গোল্ড বলা হয় --কপার আয়রণ সালফাইড মিনারেল CuFeS2, দেখতে প্রায় স্বর্ণের মত। ম্যাডামকে আর কিছু বললাম না তবে তিনি আমার মুখটা দেইখা যা পড়ার পইড়া লইলেন আর কেমন জানি মুখটা চন্দ্রবিন্দু করলেন।

এই কাহানী শোনার পর ভালই মজাক পাইলাম আমরা।


প্রসঙ্গে আসা যাউক। বহুদিন তো বইয়া বইয়া ভাবলাম কিন্তু কোন কুলকিনারা পাইলাম না- কেমনে চাইর আনা স্বর্ণের টেকা জোগার করুম। এ দিকে বয়স তো বাইন্দা রাখা যাচ্ছেনা আলগা ঘোড়ার লাহান দৌঁড়াইতেছে। পোলাপাইন আঙ্কেল আঙ্কেল ডাইকা অস্থির কইরা ফালাইলো। বিয়ার পর গ্যাদার মা যাতে ছাছা বইলা না ডাকে হের লাইগা এই ফর্মুলার কথাটা মাথায় আইলো। যা অবিয়াতি সহব্লগারগণেরও কামে দিব- প্রধানমন্ত্রী বুঝবার পারেন নাই/ বাকীদের চান্স আরও কম :)

তয় এই স্বর্ণ দিয়া অলংকার বানাইবার পারবেন না। যতকেজি ইচ্ছা দলা/ বিস্কুটের লাহান কইরা দিতে পারেন আর কইবেন অলংকার বানাইবার টাইম নাই আপাতত কয় কেজি দিতাছি পড়ে বানায় দিমুনে। বিয়াটা হইয়া গেলে চুপিচুপি একদিন সরায় ফেল্লে হবেক :) (ধরা পড়লে আমার নাম না কইয়া দৌঁড় দিবেন কইলাম)

ফুলস গোল্ডের কিছু ফটোক:










ফুলস গোল্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে: http://en.wikipedia.org/wiki/Chalcopyrite

প্রিয়ার সঙ্গে মোবাইল আলাপচারিতায় মগ্ন এক পথিক---( ফটোব্লগ)

হ্যালো ডারউইলিং কেমন আছো? কি বল্লা - ভাল আছো? আমি কিন্তু ভাল নেই। ইট/কাঠ/লোহার খাঁচায় বন্দি চিড়িয়ার মত অলস আর বদ্ধ জীবন। চারিদিকে শুধু খাঁচা আর খাঁচা। এখানে প্রকৃতি নেই, নেই শ্বাস-প্রশ্বাসের মত অবস্থা।


শোন! এই খাঁচা থেকে সূর্যগ্রহণ দেখছি! কিন্তু একি? আকাশটাকেও দখল করে ঐদিকে আর একটা খাঁচার লোহা উঠে যাচ্ছে। শুনেছি ১০০ বছরে আর দেখা যাবে না এই গ্রহণ--সেখানেও ডিস্টার্ব।


তোমাদের বাসার পশ্চিম দিকের বেলকুনিটাতে একটু যাও তো--যাওনা! কি দেখতে পেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে। এখানেও খাঁচা X( খাঁচার ভিতর থেকে ভাল লাগছে না আর হাঁফিয়ে গেছি বেশ। শোন আগামী সোমবার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আপাতত রাখি হ্যা!


এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো, তুমি বলতো! তুমিই বল না না তুমিই বল। মাঝপথে লম্বা বাস ভ্রমনের পর রিকসায় গ্রামের পথে ধাবমান। অতি প্রত্যুষে -------- মনে পড়ে যাচ্ছি কান্ট্রি রোড গানটি। কিযে ভাল লাগছে---------। এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো-----------


চারিদিকে ঝাঁপসা সবুজের হাতছানি, কিছুক্ষণ পরই আলোয় ঝলমল করবে চারিদিক! পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেইদিন ফিরে আর আসবে কি কখনও---------


গ্রামের কাউয়ারাও কি ভদ্র আর সামাজিক! অভিবাদন জানাতে ভোলেনি B-)


ওগো শুনেছো? এখন আমি আমাদের সেই ফেলে যাওয়া মধুমাখা বাড়িতে। মনে আছে ঐ পথের বাঁক টাতে তুমি আর আমি কতনা খেলাধূলায় দিন কাটিয়েছি। মনে পড়ে যাচ্ছে--------পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়/ ও সে চোখের দেখা---------


পরিচিত/ অপরিচিত গাছগুলোর হাড় কাঁপছে। তাদের চেহারায় মলিনতার ছাপ। আমার মনও আজ ভাল নেই। এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকেনাতো মন, কাছে যাবো কবে পাবো----------


বৃষ্টিতে হিমশীতল পানিতে ভিজে ঠান্ডায় গাছগুলো পরস্পরকে আলিঙ্গনের চেষ্টা। কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। তেমনি এখন তোমাকে কাছে পেতে---। একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে, থাকবেনা সাথে কোন ছাতা----------।


এখন আমি গ্রামের সেই দুই নম্বর বাঁকে। দরবেশ নানার পুকুর পাড়ে। এখানে দু'টো গাছ ছিলো। একটি জাম গাছ আর একটি বিশাল কড়ই গাছ। যা মগডালে উঠে দিতাম ঝাঁপ পুকুরে। তোমার ভিতু ঢাকা আড়চোখ আমার দিকে--কখন ভেঙ্গে ফেলি হাতপা। একদিন ঠিকই ভেঙ্গেছিল একটি হাত। আমার চাইতে তুমিই কষ্ট পেয়েছিলে বেশী। আজ দু'জনার দুটি পথ ওগো ----------------


এপাশ-ওপাশ তাকিয়ে দেখছি গ্রামটিকে।


কিন্তু কেন জানি একটু অচেনা লাগছে। খালি বাড়ির উপর বাড়ি। আচ্ছা তুমিও কি বদলে গেছো? বড় দেখতে ইচ্ছে করছে। কতদিন দেখিনি তোমায়, তবু মনে পড়ে তব মুখখানি------


একদিকে দূরন্ত শৈশব আর অন্যদিকে জীবনযুদ্ধে বাঁচার জন্য লড়াই।


মোরগ-মুরগী দুটোও সুখে আছে। নেচে গেয়ে হেসে-খেলে বেরুচ্ছে তারা।


আচ্ছা বিয়ে-সাদি যে করতে বলছো। কিন্তু চারিদিকে যে হারে কাচ্চা-বাচ্চা দেখা যাচ্ছে। একটা জন্ম দিয়ে তারপরের বছর তার কোলে আর একটা (বাচ্চার মা-বাপের কাছে মাপ চাচ্ছি)। খাইচে আমারে- বিয়ের রুচিটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


তাছাড়া পকেটে দশটা (ধার করা পয়সার ছবি) পয়সাও নেই, যে তোমাকে বিয়ে করবো। কবেযে গাইতে পারবো---এটা কি ২৪৪১১৩৯ **** তুমি শুনতে কি পাচ্ছো। দশবার বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি।


গাছ হলেও তুমি লতা হয়ে ফ্রি ফ্রি জড়িয়ে থাকতা।


শুনছো তো? আমাদের চালতা গাছে চালতা ধরেছে। তুমি না চালতার আচার পছন্দ করো। কি লাগবে না চালতা? তাহলে বিয়ে করতেই বলছো?


কেন জানি একা একা লাগছে! ঠিক ঐ গাছের কবুতরটার মত। বসে আছি পথ চেয়ে ফাগুনের গান গেয়ে, যত ভাবি ভুলে যাবো ভোলা তবু যায়না---


ঈদের দিনে পিচ্ছি পাচ্ছারা কি আনন্দে আছে আর আমি কালো পাঞ্জাবী পড়ে শোক পালন করছি :((


দেশী কুত্তাটাও মনের দু:খে ধানগাছ খাচ্ছে B-)


মনের দু:খে মনে হচ্ছে হাটের মাঝে বোতলের মতো তেঁতুল গাছে রশি দিয়ে ঝুলি--
আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে যেন সৈকতে পড়ে আছি-----


পুকুর পাড়ে বসে আছি। পুকুরে কচুরিপানার ফুল দেখা যায়--কি সুন্দর লাগছে। জীবনটা কেন যে ফুলের মত সুন্দর হয়না। পুকুর পাড়ে ঢেঁকিশাকের গাছ দেখে মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল। জীবনটা কি তাহলে ঢেঁকিগাছ হয়ে গেল।


দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বসে আছি রাতের পানে। অনাগত ভবিষ্যতের দিকে।


এরপর সন্ধ্যা এবং তারপর। তার আর পর নেই নেই কোন ঠিকানা---