সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১১

জীবন কণিকা



১। রঙধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

২। প্রো-অ্যাকটিভ বা কর্মমূখী ব্যক্তিরাই হচ্ছেন যথার্থ স্মার্ট, মূল্যবোধসম্পন্ন, বাস্তববাদী এবং জানেন কোন পরিস্থিতিতে তাকে কি করতে হবে।

৩। বিপরীত লিঙ্গকে আকৃষ্ট করার চেষ্ঠা স্মার্টনেস নয়, এটি পশুসুলভ প্রবণতা। প্রতিটি পশুই সহজাতভাবে বিপরীত লিঙ্গকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে। সত্যিকার স্মার্ট সে-ই যার আত্মপ্রত্যয় ও গুণাবলী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে চারপাশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।

৪। শেষ পর্যন্ত সবকিছুই হয়তো আপনার প্রত্যাশা পূরণের পথকে সুগম করে দেবে। তাই প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্যে সবরের সাথে কাজ করুন।

৫। জীবন গতির নাম, স্থিতির নয়। আপনি কিভাবে জীবনযাপন করছেন তার উপর নির্ভর করছে এ গতি ঊর্ধ্বগামী না নিম্নগামী।

৬। লক্ষ্যের ছবি যখন মনে গেঁথে যায়, তখন তা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই জীবনকে পরিচালিত করে। নিজের জীবনে তাকালে দেখবেন সচেতন বা অবচেতনভাবে যা কল্পনা করেছেন, বিশ্বাস করেছেন, বাস্তবে তা-ই অর্জন করেছেন।

৭। কাজের প্রস্তুতি নিতে নিতেই পুরো সময়কে নষ্ট করবেন না। যখন যা করা প্রয়োজন তখনই তা শুরু করনি।

৮। একশত ভাগ নিখুঁত কর্মসম্পাদনকারী হতে যাবেন না।

৯। দৈনন্দিন কাজের রুটিন করার ব্যাপারে আপনি স্বাধীন। কিন্তু তা ভঙ্গের স্বাধীনতা আপনার নেই।

১০। প্রাত্যহিক কর্মতালিকা করুন কাজের গুরুত্ব বুঝে। আর তা অনুসরণ করুন আপনার রুটিন অনুসারে।

১১। বুদ্ধিমান সে যে তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানে এবং সেখান থেকেই পথ চলা শুরু করে।

১২। আপনাকে ব্যবহার করে সুযোগ নিতে চায়-এমন স্বার্থান্বেষীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

১৩। প্রতারণা করা অপরাধ, আর প্রতারিত হওয়া তার চেয়েও বেশী অসম্মানের।

১৪। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সবসময় লিখিত প্রমাণপত্র রাখুন।

১৫। জৈবিক চেতনার প্রকাশ ঘটে অহমের মাধ্যমে যা অর্থ, মতা বা পদের সাথে সাথে ফুলে-ফেঁপে ওঠে। আর পারিপার্শ্বিকতার হাওয়া না পেলে তা বেলুনের মত চুপসে যায়।

১৬। প্রকৃতিতে কোন অহম নেই। তাই সেখানে এত শৃঙ্খলা, এত প্রশান্তি।

১৭। স্রষ্টায় সমর্পণ এবং অহম কখনও সহাবস্থান করতে পারেনা। সত্তা থেকে অহমের দুর্গন্ধময় অস্তিত্বকে অপসারণ করতে পারলেই সমর্পনের প্রশান্তিময় সুবাতাস বইতে শুরু করে।

১৮। দলিল, প্রমাণ কিংবা যুক্তি-তর্ক দিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করা যায় কিন্তু নিজের অন্তরত্মাকে পরিতৃপ্ত করা যায় না। আত্মশুদ্ধি ও স্রষ্টায় সমর্পনের মধ্য দিয়েই আত্মা তৃপ্ত হতে পারে।

১৯। জন্মসূত্র বা বংশ মর্যাদায় নয়, মানুষের মহত্ত্ব তার কর্মে। কর্মই মানুষকে মানুষ করে, মহান করে, অমর করে।

২০। বিদ্যা বা জ্ঞান মানুষকে মানুষ বানায়। আর অবিদ্যা বা অপজ্ঞান মানুষকে হয় দানব না হয় দাসে পরিণত করে।

২১। কোন কাজ করার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, সে কাজটি আপনার ও অন্যের জন্য কল্যাণকর কি না। তাহলেই আপনি বিদ্যা ও অবিদ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন।

২২। কোথায় তাকে থামতে হবে সীমালঙ্ঘনকারী তা কখনোই বুঝতে পারে না। প্রতিটি দুদর্শার মূলে রয়েছে ব্যক্তির বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন।

২৩। বস্তুর বিনাশ আছে। বস্তু আপনার কাছে মুখ্য হয়ে উঠলে আপনিও আত্মবিনাশী শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়বেন।

২৪। শত ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে আমরা ব্যক্তি আমি’র যত্ন নেই না। কাজ এগিয়ে যায় কিন্তু ব্যক্তি পিছনে পড়ে থাকে। এই দূরত্ব এক সময় ব্যক্তির জীবনে ছন্দপতনের কারণ হয়।

২৫। নিজেকে ভালবাসতে পারলেই অন্তর্গত শক্তিকে জাগ্রত করা যায়। সকল পরিবর্তনের এই হচ্ছে শুরু।

২৬। যুক্তিসঙ্গত কারণে ‘না’ বলতে শিখুন। নিজের ও অন্যের কল্যাণার্থে প্রয়োজনে দৃঢ় হতে দ্বিধা করবেন না।

২৭। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শিখুন। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

২৮। আপনার অভিপ্রায় বা নিয়ত হচ্ছে আপনার নিয়তি।

২৯। কারো প্রশংসায় অতি বিগলিত হবেন না। কারো সমালোচনায়ও বিব্রতবোধ করবেনা না।

৩০। কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন না। একটু থামুন। লম্বা দম নিন। মনকে জিজ্ঞেস করুন, ‘এ মুহুর্তে আমার কী করণীয়। ’

৩১। কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে কখনো ব্যক্তিত্ব অর্জিত হয় না।

৩২। সত্যের প্রবক্তা নিজেই যখন সত্যেও বিপরীত আচরণ করেন, তখন সে সত্য মার খায়।

৩৩। শাশ্বত-সত্যবাণী যত বলা হয় তত তার মহিমা বাড়তে থাকে। যেমন একটি মোমবাতি থেকে আর একটি মোমবাতি ধরালে আলোর দ্যুতি বাড়ে।

৩৪। আগুনকে ছাই চাপা দিয়ে যতই ঢেকে রাখা হোক, সে তার শক্তি ও ঔজ্জ্বল্য ঠিকই বিকিরণ করতে থাকে।

৩৫। বন্দিত্ব ইট-পাথরের দেয়াল, লোহার শিকল বা পাটের দড়িতে নয়, আসল বন্দিত্ব হচ্ছে মনে। মনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে কেউ তার শৃঙ্খলকে ভাঙতে পারে।

৩৬। ধ্যান, মোরাকাবা, মেডিটেশন একই সত্যে পৌঁছার সিড়িঁর ভিন্ন ভিন্ন নাম।

৩৭। নিয়মিত সকালের আধঘন্টা মেডিটেশন আপনার চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও নিজেকে প্রকাশ করার মতা বাড়িয়ে দেবে।

৩৮। অসাধারণত্ব একটি গুণের নাম। নারী বা পুরুষ ভেদে একক কোন পরে নয়।

৩৯। চেহারায়, দৈহিক গড়নে বা বাহ্যিক লেবাসে নয়, মডেল তিনিই যা গুণগুলোকে অনুসরণ করা যায়।

৪০। সময়ের প্রতিটি মুহুর্ত মূল্যবান। এই মূল্যবান সময় কখনোই অন্যের ছিদ্রান্বেষণে অপচয় করবেন না। একে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করুন।

৪১। করতে হয় বলে করা আর ভালবেসে কাজ করা এক নয়। কাজকে যখন আপনি ভালবাসবেন কাজই তখন আপনাকে বহুগুণে প্রতিদান দেবে।



এখান থেকে নেয়া:
(কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন