সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১১

বান্দরামী কারে কয়? কত প্রকার ও কিকি? - পর্ব-২




নারিকেল গাছ থেকে চিৎপটাং হওয়ার পর মনজুরুল বেচারা একটু ঝিমিয়ে পড়েছে। বান্দরের ল্যাঞ্জা দুর্বল হলে যা হয়, গাছে ঝুলতে কষ্ট হয়। সেই রকম তার দশা হলো, ধীরে ধীরে আমরা চুরি বিদ্যা ভুলিয়া গেলাম--কারণ অস্ত্র যে নষ্ট, তাছাড়া বয়স তো থেমে নেই, কন্ঠেও ভারিক্কি ভাব এসেছে। আর পঁঞ্চবান্দরের মান ইজ্জত বলে কিছু শিক্ষা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে--কারণ তারা এতদিনে নবম ক্লাসে উঠে গেছে-সেই সঙ্গে ঠোটের উপরে কালচে রেখা দেখা দিয়েছে।

মিজান স্কুলের নবাগতা ৬ষ্ট শ্রেণীর অপরূপ সুন্দরী ময়নার প্রেমে উদাস হইয়া পড়িয়াছে। শুধু মিজান বললে ভুল হবে পঁঞ্চবান্দরই একটু কাইত হইয়া পড়িয়াছে। ময়না স্কুলে কখন আসবে কখন যাবে বা মাঠে কখন খেলবে তা নিয়ে আলোচনা/ দর্শনই স্কুলের পাঠ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াল। আমাদের ক্লাস রুমটা রাস্তার সাথেই তাই ময়না আসার আগেই ক্লাসরুমে এসে জানালার কাছে কেউ রবিন হুড হয়ে, কেউবা টম স্টাইলে, কেউ হারকিউলিস স্টাইলে আর মনজুরুল দেখাত ব্রুস লির কসরত। আর সুন্দর ছেলে মিজান সালমান শাহ স্টাইলে দাঁড়িয়ে থাকত। উদ্দেশ্য একটাই ময়নার মন জয়। ময়নার মন জয়ের দাবী মিজানের একটু বেশীই ধরা চলে, কারণ তার বাপে স্কুলের ইসলাম শিক্ষার স্যার আর তার চাচা অংকের স্যার। এজন্য তার তুলনায় আমরা দুর্বল প্রতিযোগী। আর ময়নার বাপে আছিল আমাদের স্কুল কমিটির সভাপতি। সভাপতি সাহেবের সঙ্গে স্যারদ্বয়ের খাতিরও বেশ। হিসেব নিকেশ কষে দেখা যায় মিজানই ময়নার হৃদয়ের নব্বইভাগ দাবীদার। এজন্য সে স্কুল ছুটির পরও ময়নাকে বাড়ির দিকে এগিয়ে দেয়ার জন্য যায়। কয়েকদিন ময়নাদের বাড়িতেও গেছে, যদিও তার বাড়ি উল্টোপথে। আর আমরা -- দূর থেকে তারে শুধু দেখেছি আর মনে মনে তার ছবি একেছি।

এভাবেই হালকা পাতলাভাবে পরবর্তীতে টেবিল-চেয়ার সাক্ষী রেখে মিজান আর ময়নার হৃদয় দেয়া নেয়া চলছিল। আমরা ছিলাম উপায়হীন বটবৃক্ষ- কালের সাক্ষী, তাদের উষ্ণ আবহাওয়ার সম্পর্কে শীতল বাতাস বইয়ে দিচ্ছিলাম। মিজান ক্লাসের চেয়ার টেবিল সব জায়গায় মিজান + ময়না লেখা শুরু করল। এতদিন লিখতো চেয়ার টেবিলের সাইডে, স্কুল বৃক্ষে এখন লেখা শুরু করল চেয়ার টেবিলে উপরে এমনকি দেয়ালেও।

এরমধ্যে একদিন ইংলিশ ক্লাসে প্রক্সি দিতে আসলেন অংকের সবচেয়ে রাগী মন্টু স্যার। মেয়েরা বসত স্যারের টেবিলের ডানপাশে আর আমার বসতাম বামপাশে। আমি সেদিন প্রথম বেঞ্চের প্রথম ছাত্র ছিলাম। স্যার একটা ইংলিশ গল্প পড়ে যেতে বললেন। শুরু করলাম পড়া, প্রথম লাইন ভালই ভালই শেষ করলাম। দ্বিতীয় লাইনের মাঝামাঝি গিয়ে ডান গালে ঠাস করে একটা চড় পড়ল--সাথে সাথে স্যারের হাতের পাঁচটি আঙ্গুলের ছাপ আমার ডানগালের মধ্যে প্রস্ফুটিত হলো। প্রথমত বুঝতে পারলাম না কি ঘটল--এরপর স্যার হাসফাস করে বলতে লাগলেন, তোরা কি এইজন্য স্কুলে আসিস। টেবিলের উপর মিজান + ময়না লেখা দেখিয়ে দাঁত কড়মড় করে বলতে লাগলেন তোদের বাবা-মা কি এইজন্য তোদেরকে স্কুলে পাঠায়। মিজান ততক্ষণে পিছনের বেঞ্চে থাকায় পিছনের জানালা দিয়ে চম্পট।



বি:দ্র: পোষ্টারই বলে দিচ্ছে ছবিটির নাম। আমার কাছে ফাইন্ডিং নিমো এবং ফাইন্ডিং নিমো -২ আছে। আর কোন সিকুয়েল বের হয়েছে কিনা জানিনা। অনেকে ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছেন আর যারা কার্টুন ছবি পছন্দ করেন দেখে নিয়েন। ভাল লাগবে কইলাম কিন্তুক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন