রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

শব্দনীড় ও অশ্রুনদী

শব্দনীড়

শব্দনীড়!
খুঁজি তোমায় জলের ধারে
যেথা হংস মিথুন খেলা করে
খুঁজি তোমায় কদমতলে
যেথা দুচোখ হারানো যুবক
খুঁজে ফেরে দৃষ্টি।
খুঁজি তোমায় পথের বাঁকে,
যেথা পথ হারানো পথিক
ঝাপসা চোখে চেয়ে থাকে
বধূ দেখা সূর্যরশ্মির পানে,
ঘোলাটে চোখের পাপড়ীতে
ছায়া সুনিবিড় শীতলতায়
ঘুমায় সূর্যকন্যা।
খুঁজি তোমায় পথে প্রান্তরে
সবুজ বনানীর শেষ কাঁন্নায়
যেথা মৃতবৎ প্রজাপতি
বাতাসে ডানা ঝাপটায়।
খুঁজি তোমায় ঝড়ের রাতে
একলা বাতায়নে।
খুঁজি তোমায় এলোমেলো বাতাসে
বেনী দোলানো সময়ের কাঁধ বেয়ে।
খুঁজি তোমায় টুংটাং ধ্বনিতে,
ছলকে পড়া ঠোট পোড়ানো
চায়ের কাপের উষ্ণতায়।
খুঁজি তোমায় মাটিচুলায়
উপচে পড়া ভাতের ফেনে।
অলিগলি চৌরঙ্গী মাড়িয়ে
খুঁজি তোমায় দূরগামী
ট্রেনের সাইরেনে,
আমার হারানো শব্দনীড়!



অশ্রুনদী

ছায়া সুনিবিড় মন
ছায়ায় ঢেকে রাখো
উষ্ণতা এড়িয়ে চলো অগোচরে
বারবার ক্ষয়িষ্ণু চন্দ্রবলয় তটে
গ্রহণ করতে চাইলে
পর্দা টেনো।
আড়াল করো মৃত জোছনা।
হেয়ালী মনে বারান্দায় এসে
গ্রহণ করো শীতলতা।
শিউলীফোঁটা দিনের কথা
মনে করোনা।
বেলী ফুলের মালা গেঁথে রাখা
দিনের কথা প্রশ্নবিদ্ধকালে
দু’ফোটা অশ্রু ঝরে পড়লে
ঝাপসা আবহে খুঁজে পাবে আমায়।
চোখের কোনে নদী
দেখার ইচ্ছে হলে,
হিমছড়ির কোলে আসিও
দেখতে পাবে হিমেল চোখের
এক কিশোরের কপোল বেয়ে
নেমে যাওয়া অশ্রুনদীর মোহনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন