আজকে বিকেল ৫.২০ এর দিকে কারেন্ট গেল। বিছানায় শরীরটা একটু এলিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে চলে গেলাম ঘুমরাজ্যে। বহুদিন স্বপ্ন দেখিনা। আজকে একটা স্বপ্ন দেখলাম। ইদানীংকার স্বপ্নগুলো মনে থাকে না। থাকলেও দেখা যায় ভয়ঙ্কর বা বাজে স্বপ্নগুলো। স্বপ্নের কথা বলি "বাজার করতে গেলাম। যে দোকানে নিয়মিত কাঁচা বাজার করি সেই দোকানে গেলাম। দোকানে গিয়ে দেখি দু'জন লোক দোকানের সামনে বাজার করে রেখেছে। যার দরুণ দোকানের সামনে যাওয়া যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর তারা বাজার করা বস্তা গুলো সরানো শুরু করলো। কিন্তু একটা বস্তা রেখে গেল। ভাল লোক বিধায় (স্বপ্নের) তাদের পিছনে পিছনে বস্তা নিয়ে গেলাম দেয়ার জন্য। গিয়ে শুনি ঐ বস্তায় মালিকের ৭ কোটি টাকা ছিল। সে টাকা বের করে গুনতে আরম্ভ করলো। দেখি সব পাঁচশো টাকার নোট। আর পরিমাণে কম মনে হচ্ছে। তাই আমার বুকটা ধুকপুক করছে। যদি কম হয় তাহলে মান সুলেমান শেষ। সাথে জেলের ভাত খেতে হবে ইত্যাদি বিবিধ টেনশনে টেন্সিত হয়ে পড়লাম। এমন সময় পিঠের মধ্যে মশার কামড় অনুভব করলাম।" মশা মহাশয় এ যাত্রায় উদ্ধার করলো। অশেষ ধন্যবাদ হে মশককুল।
এরপর রাত ৪ টার দিকে ব্লগ থেকে উঠে ঘুমঘরে গেলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমের জগতে হারিয়ে গেছি। এরপর "বিদেশ যাত্রা। টিকেট কেটেছি রাত ১১ টার বিমানে। এক নিকটাত্নীয়ের বাসা থেকেই বিমানে উঠবো। তাড়াহুড়ো করে লাগেজ গোছালাম। বাসে করে বিমান বন্দর যেতে হবে। বাস খুঁজছি কিন্তু পাচ্ছিনা। সামনে একটা বাস পেলাম। হায় হায় এটাতো দেখি আর্মিদের বাস। ভয়ে পিছপা হলাম। পিছনে আর একটা বাসের দেখা মিলল। এটা আবার দেখি ওভারলোড। বসা যাত্রীর তুলনায় দাঁড়িয়েছে তিনগুন--ঠিক যেন মিরপুর টু গুলিস্থান বাস সার্ভিস। তারপরও উঠতে হবে - হাতে সময় কম। উঠলাম বাসে এরপর বিমান বন্দরে বা বিমানে উঠার অংশটুকু কেন জানি বাংলা সিনেমার মত কাটপিস হয়ে গেল 'খোঁজ -সার্চ দ্য সার্চ' সিনেমার ইফেক্ট কিনা। এক অচীন দেশে বর্ডার রক্ষিদের হাতে আটক হলাম। তারা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে একটা নাগর দোলায় তুলে রকেটের গতিতে নিক্ষেপ করল। গিয়ে পড়লাম একটা সাগরের মাঝখানে। সাগর থেকে উঠে আসলাম ধীরে সুস্থে ক্লান্ত শরীরে। হঠাৎ কোলে দেখি একটা সদ্য জন্মানো মৃত বাচ্চা। ডুকরে কেঁদে উঠলাম। সে কাঁন্না কেউ শুনতে পেয়েছে কিনা জানিনা কারণ রুমে একাই ছিলাম। এর পরপরই বোনের ফোন পেয়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল।" একদিনই দু'টা খারাপ স্বপ্ন দেখার রেকর্ড এই প্রথম।
জীবনের সবচেয়ে খারাপ স্বপ্নটা দেখেছি গত দেড় বছর আগে। গেছি সদ্য বিবাহিত মামাতো বোনের বাড়ীতে বেড়াতে। পাক্কা চার ঘন্টার বাস ভ্রমণ। মুড়ির টিন মার্কা বাসে ঝাঁকি খেয়ে শরীরের অবস্থা তেরটা। রাতে বার তের পদের (তাদের পুরনো রেওয়াজ) খাবার খেয়ে শরীরটা আরও ভারী হয়ে গেল। শুয়ে পড়লাম মামাতো ভাই সহ এক খাটে। এরপর "রাস্তায় হাঁটছি নিকশকালো প্রকৃতির মাঝে। শুধু ডানে বায়ে ছায়ার মতো কিছু গাছপালা দেখা যায়। হঠাৎ কোথ্থেকে দুই ছিনতাইকারী এসে আমাকে ধরে ফেলল। তাদের একটাই দাবী আমার মোবাইলটা দিতে হবে। অন্য কিছু আর খুঁজছে না বা চাচ্ছে না। আমি আবার প্রিয় মোবাইলটা দিতে চাচ্ছিনা। কারণ এই মোবাইল দিয়েই আমি ইন্টারনেটে বসে থাকি। তারা ব্যর্থ হয়ে আমাকে একটা কাঁটা গাছের গুড়িতে শোয়ায় ফেলল। তিনকোনা কিছু টিনের মাথা দিয়ে শরীরে আঁচড় কাঁটা শুরু করলো। চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম আর ঘুমটাও গেল ভেঙ্গে। তড়িঘড়ি করে উঠে বসে পড়লাম। সাথে সাথে মামাতো ভাইও লাফ দিয়ে উঠল। পাশের রুম থেকে বোনের শাশুড়ী দৌঁড় দিয়ে আসল। এরপর দেখি বাড়ীশুদ্ধো এসে হাজীর। নতুন আত্নীয়ের বাড়ীতে এরকম একটা বেকায়দা অবস্থায় পড়ায় লজ্জিত হয়ে পড়লাম। তবে জীবনে চিল্লানি দেয়া স্বপ্ন এটাই প্রথম আর শেষ।
ছোটকালে কত সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখতাম। আর দিনগুলি সুন্দর ভাবে কেঁটে যেত। শুধু একটাই দুঃস্বপ্নের কথা মনে আছে "ক্ষেতের মধ্যে হাঁটছি। দূরে একটা ধানী জমিতে টাকি মাছের মত হা করা মুখ দেখতে পেলাম। মাছটার কাছে গেলাম। অমনি বিরাট একটা মূখ হয়ে আমাকে গিলে খেল। ঠিক যেন পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিনেমার মত। নায়ককে অক্টোপাস দৈত্যটা যেভাবে গিলে খায়। নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ঘুমটা গেল ভেঙ্গে।"
জীবনে ভাল স্বপ্ন যেগুলো দেখেছি একটাও মনে নেই। তাই শেয়ার করতে পারলাম না। মানুষের নীতিই মনে হয় তাই। দুঃখের কথা বা দুঃস্বপ্ন মনে থাকে। সুখের স্বপ্নগুলো শুধু ভুলে যায়। আবারও কবে সুস্বপ্ন দেখা শুরু করবো। না এভাবেই শুধু দুঃস্বপ্নের বলি হতে থাকবো নিয়ত।
সবাই সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখুন এবং সেই সঙ্গে সুখী সুন্দর জীবন অতিবাহিত করুণ এই মঙ্গলকামনা রইল। আর এই কাবজাব মার্কা পোষ্ট পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ছবিসূত্র: আন্তজাল।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন